মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেফতার ৪

লেখক:
প্রকাশ: ১৪ ঘন্টা আগে

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা ক্লিনিক সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের কোনো ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধন ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এর আগে মহাখালীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাড্ডা সেন্টারের জমি বা মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সেটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি এনজিও পরিচালিত মাতৃসেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শাহ আলী থানায় মামলা করেছে। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশধারী বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ক্লিনিকের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর ওই স্থানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সাইনবোর্ড দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।