
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত এক সাব-ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার শাহ আলমের বয়স ৪৪ বছর। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নেওয়া এই কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
এরপর এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
