ফ্রান্সে বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা, আটক ১২০০

লেখক:
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফ্রান্সে শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবারের বিক্ষোভে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী প্যারিসে দিনের শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বিভিন্ন শহরে সরকারি স্থাপনায় আগুন ও ভাঙচুর

প্যারিসের বাইরে কয়েকটি শহরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। লিমোজেসে একটি ঐতিহাসিক পৌর ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ভবনটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। লিওঁ শহরের পর্যটন কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া সেন্ট-এতিয়েন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক তরুণ বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে হামলা, পণ্য লুট এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের খবরও উঠে এসেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ বিভিন্ন সংগঠন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষা খাতে অর্থায়ন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে যোগ দেন। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

শিক্ষা খাতের সংকট নিরসনে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের অসন্তোষ কাটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে চাপ

চলমান বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে। সহিংসতার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।