প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে প্রস্তুতি, টানাপোড়েনও আছে

লেখক:
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ মাসে দুই দিনের সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সফরটি এখনো চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়নি। সফরের সম্ভাব্য রূপরেখায় সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সমাধানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি ঢাকার অগ্রাধিকারে রয়েছে।

গত ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী এরপর দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এরই মধ্যে সম্ভাব্য সফর নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ‘দ্য ট্রিবিউন’–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে অগ্রগতি না হলে তারেক রহমান ভারত সফরে নাও যেতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ঢাকা।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ আগে থেকেই দেওয়া হয়েছে। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সফর নিয়ে অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলে দিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ, অন্যদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মতপার্থক্য—দুই বিষয়ই সম্ভাব্য সফরের সময় ও রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ঢাকা–দিল্লির সাম্প্রতিক যোগাযোগের পরবর্তী অগ্রগতি সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে যায়, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।