
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানী টোকিওর দক্ষিণাঞ্চলের কাছে কাতসুউরা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে টাইফুনটি আঘাত হানে। তখন ঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
টাইফুনের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঝড়ের প্রভাবে বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর আগের দিন অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ আরও ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করায় অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরের স্বাভাবিক মাসিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের কারণে দেশটির রেল যোগাযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুলেট ট্রেনসহ কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। টোকিও-ওসাকা রুটের শিনকানসেন পরিষেবাও এর আওতায় ছিল।
এদিকে পর্যটননগরী কামাকুরার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শহরটির মেয়র তাকাশি মাতসুও স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, উপকূল অতিক্রম করার পর টাইফুনটি উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার সময় কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে এর প্রভাবে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছরে জাপানে এটি ২৫তম টাইফুন। গ্রীষ্মের শেষ থেকে শরতের শুরু পর্যন্ত জাপানে প্রায়ই শক্তিশালী টাইফুনের প্রভাব দেখা যায়।