কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। অভিযানে শতাধিক হোটেল ও আবাসন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকরা।
গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ওই এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁর নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউ মার্কেট এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি থাকলেও অনেক হোটেলের দরজায় এখন তালা ঝুলছে। ফলে আগে যেসব পর্যটক সহজে থাকার জায়গা পেতেন, তাদের এখন বিকল্প এলাকায় যেতে হচ্ছে।
হোটেল বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পর্যটক এলেও থাকার জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসায় প্রত্যাশিত বেচাকেনা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, চালু থাকা সীমিত সংখ্যক হোটেলে বেড়েছে কক্ষের চাহিদা। এর প্রভাবে অনেক জায়গায় ভাড়াও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের কয়েকজন জানিয়েছেন, আগে যে দামে হোটেল পাওয়া যেত, বর্তমানে একই ধরনের কক্ষের জন্য অনেক বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
পর্যটকদের অভিযোগ, থাকার জায়গার সংকটের কারণে কলকাতায় ভ্রমণের খরচ ও বিড়ম্বনা—দুটিই বেড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসা—উভয় পক্ষের ওপরই এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।